ঢাকা   শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  ঈশ্বরগঞ্জে তিন শতাধিক সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য ইউএনওর ব্যতিক্রমী ঈদ আয়োজন (ময়মনসিংহ)        সেভেন সিস্টার্স নিয়ে ড. ইউনূসের মন্তব্যে ভারতে তীব্র প্রতিক্রিয়া (জাতীয়)        ৩ শতাধিক দুস্থ, প্রতিবন্ধী এতিম সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য ঈশ্বরগঞ্জ ইউএনওর ব্যতিক্রমী ঈদ আয়োজন (ময়মনসিংহ)        চাঁদ দেখা গেছে, সৌদিতে ঈদ রোববার (জাতীয়)        পুরো গ্রাম বিক্রি হওয়ার তথ্য সত্যি নয়, বিক্রি হয়েছে শুধু একটি বাড়ি (ময়মনসিংহ)        ফ্যাসিস্ট পলাতক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বাবু ও তার পাটনার আসিনুর রহমান মিল ও পুষ্টির লাইসেন্স দিয়ে শত শতকোটি টাকার বাণিজ্য করছে,কর্তৃপক্ষ নিরব! (ময়মনসিংহ)        অষ্টধারে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সংখ্যালঘু পরিবারের বসত ভিটা দখলের অভিযোগ (ময়মনসিংহ)        দাখিল পরীক্ষার সূচি পরিবর্তন, নতুন রুটিন প্রকাশ (জাতীয়)        ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠায় ঐক্যমতের সরকার অপরিহার্য — উলামায়ে কেরাম ও বিশিষ্টজনদের অভিমত (ময়মনসিংহ)        দলীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বিএনপি দেশ ও জাতির স্বার্থকে প্রধান্য দেয় - প্রিন্স (জাতীয়)      
ব্রহ্মপুত্র নদকে ১০০ মিটার খালে রুপান্তরিত করার প্রক্রিয়া। কর্তৃপক্ষ নীরব কেন

ব্রহ্মপুত্র নদকে ১০০ মিটার খালে রুপান্তরিত করার প্রক্রিয়া। কর্তৃপক্ষ নীরব কেন ----ব্রহ্মপুত্র সুরক্ষা আন্দোলন।

Logo Missing
প্রকাশিত: 06:05:05 pm, 2020-09-13 |  দেখা হয়েছে: 45 বার।

ব্রহ্মপুত্র নদ কে খনন করার লক্ষ্যে ২৭৬৩ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে জামালপুরের পুলালাকান্দি থেকে গাজীপুরের টোক পর্যন্ত ২২৭ কিলোমিটার নদী খননের কাজ চলছে।

ব্রহ্মপুত্র নদকে ১০০ মিটার খালে রুপান্তরিত করার প্রক্রিয়া। কর্তৃপক্ষ নীরব কেন ----ব্রহ্মপুত্র সুরক্ষা আন্দোলন।

মোঃ শামসুল আলম খান ও ফজলে এলাহি ঢালী :

ব্রহ্মপুত্র নদ কে খনন করার লক্ষ্যে ২৭৬৩ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে জামালপুরের পুলালাকান্দি থেকে গাজীপুরের টোক পর্যন্ত ২২৭ কিলোমিটার নদী খননের কাজ চলছে। কিন্তু সরকারী বিধি মোতাবেক ১০ ফুট গভীরতা থাকার কথা থাকলেও সেভাবে না করে সরু খাল এর আকারে খনন কাজ চলছে।এই কাজ কে ঘিরে নগরবাসীদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিধি মোতাবেক ব্রহ্মপুত্র নদ খনন না করায়
গতকাল রবিবার সকাল ১১ টায় স্থানীয় এক প্রেসক্লাবে ব্রহ্মপুত্র সুরক্ষা আন্দোলন এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে খননের নামে ব্রহ্মপুত্র নদ কে খালে পরিণত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে অবিলম্বে তা বন্ধ করার দাবি জানান "ব্রহ্মপুত্র সুরক্ষা আন্দোলনে"-র পক্ষে প্রধান সমন্বয়কারী আবুল কালাম আল আজাদ। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন শাহ নুরুজ্জামান, মাহমুদ পারভেজ।
 

বক্তারা দাবি করেন, ব্রহ্মপুত্র নদটি ১ থেকে ২ কিলোমিটার প্রশস্ত হওয়া দরকার, সেখানে মাত্র ১০০ মিটার খাল খনন করা হচ্ছে। যেখানে ২/৩ চ্যানেল ছিল সেখানে মাত্র ১টি চ্যানেল রাখা হচ্ছে বাকিগুলোকে বালু ফেলে ভরাট করে ফেলা হচ্ছে, ফলে অবৈধ দখলদারদের দখলের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। আভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং জেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন ঘটনা ঘটলেও নজরে পড়ছে না কারো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার ব্রহ্মপুত্র নদ খনন এর যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের যে কাজ চলছে তা এখন অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ভেস্তে যেতে বসেছে।

সংবাদ সম্মেলনে ব্রহ্মপুত্র সুরক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন,পৃথিবীতে অন্যতম একটি নদের নাম ব্রহ্মপুত্র। পারে গড়ে উঠেছে অনেক প্রাচীনতম জনপদ।এই বঙ্গভূমি উত্থানের অন্যতম যোজনা ব্রম্মপুত্রের পলি। যুগে যুগে ব্রহ্মপুত্রের প্রবাহ মানুষের সহায় হয়েছে। আজ ব্রম্মপুত্রের পুরাতন ধারাটি বিপন্ন, মৃতপ্রায়।১৮৮৫ সালে আনুমানিক ৭ মাত্রার এবং ১৮৯৭সালে আনুমানিক ৮.৮ মাত্রার এবং ১৭৬২ সালে আনুমানিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের কারণে ব্রহ্মপুত্র তার গতিপথ পাল্টে মূল ধারাটির যমুনা নদী দিয়ে প্রবাহিত করেছে। মানুষের দখল ও দূষণে জর্জরিত ব্রহ্মপুত্রকে সুরক্ষা দেয়া এই বদ্বীপ বাসির প্রাণের দাবি। এমতাবস্থায় বিগত ২০১৯ সালে শুরু হওয়া ব্রহ্মপুত্র কে খনন করার লক্ষ্যে ২৭৬০ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে জামালপুরের পোলালাকান্দি থেকে গাজীপুরের টোক পর্যন্ত ২২৭ কিলোমিটার নদী খননের কাজ চলছে। শুষ্ক মৌসুমে ১০০ মিটার প্রস্থ এবং ১০ ফুট গভীরতা থাকার কথা বলা হচ্ছে। এজন্য প্রয়োজনীয় উচ্ছেদের কাজও করা হবে বলা হয়েছিল। খনন কাজ শেষে আরো তিন বছর দেখভাল করার কথাও বলা হয়েছে ।
কিন্তু আমরা পরিতাপের সাথে লক্ষ্য করছি যে, এখনো পরিষ্কারভাবে নদীর সীমানা নির্ধারণ করে স্থায়ী সীমানা পিলার বসানো হয়নি।বেশ কয়েকটি শহর পৌরসভা সিটি কর্পোরেশন নদী দূষণ করে যাচ্ছে। হাজার হাজার কল-কারখানা টিটিপি ছাড়াই চলছে। কল কারখানার বিষাক্ত কেমিক্যাল বর্জ্য নদীতে পড়ছে। এতে নদী বিষাক্ত হচ্ছে। নদীতে থাকা অজস্র প্রাণ হারিয়ে যাচ্ছে। দখল ও দূষণ মোকাবেলার কার্যকর কোনো উদ্যোগ নাই।দখল-দূষণ জারি রেখে নদীকে বাঁচানো কিভাবে সম্ভব?
আরো উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বিশাল ব্রহ্মপুত্র নদ কে ১০০ মিটারের খালে পরিণত করার চেষ্টা চলছে। প্রথম পক্ষ নদী খননের বালু রাখা হচ্ছে নদীর বুকে। চলতি বর্ষায় অধিকাংশ উত্তোলিত বালু নদীতেই ফিরে গেছে। বাদবাকি বালুর স্তুপের উপর নতুন করে দখলদারিত্ব কায়েমের লক্ষণ স্পষ্ট।এখনো বর্ষায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের দাঁড়ায় যে পরিমাণ পানি আসে তা এক থেকে দুই কিলোমিটার জায়গা দাবি রাখে। ১০০ মিটারের সংকীর্ণতা কি নদীর স্বতঃস্ফূর্ত প্রবাহের জন্য নতুন বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।
কাজেই আমাদের সুনির্দিষ্ট দাবি:
১. খননি নামে ব্রহ্মপুত্রকে খালে পরিণত করা চলবে না।
২.নদীর বুকে দখলমুক্ত করার জন্য সকল ধরনের স্থাপনা অনতিবিলম্বে উচ্ছেদ করে নদীর স্বাভাবিক গতি ধারা ফিরিয়ে আনতে হবে।
৩.কল কারখানা এবং বিভিন্ন শহর জনপথের বিষাক্ত বর্জ্য আবর্জনা নদীতে ফেলা বন্ধ করতে হবে।
৪. ১৯৫০ সালের প্রজাস্বত্ব আইন অনুযায়ী দেশের সমস্ত নদী-খাল-বিল জলাশয় জায়গা চিহ্নিত করে স্থায়ী সীমানা পিলার বসাতে হবে।
৫. প্রাণ-প্রকৃতির শত্রু প্লাস্টিক প্যানা নিষিদ্ধ করতে হবে।
৬.নদী খালকে সংকীর্ণ করে পুরনো ধাঁচের নদী হন্তারক ব্রিজ কালভার্ট স্থাপন থেকে বের হয়ে প্রয়োজনে ঝুলন্ত ব্রিজ তৈরি করতে হবে।
৭. সমস্ত নদী-খালের গতিরোধক , বাঁধ অপসারণ করে স্বাভাবিক জলপ্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে।